বিসিএস লিখিত পরীক্ষায় আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিতে ভালো করবেন যেভাবে, আবদুল্লাহ-আল-মামুনের প্রস্তুতি কৌশল

৪০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ-আল-মামুন আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি লিখিত পরীক্ষার তিনটি অংশ, ম্যাপ ব্যবহার ও নীতিপত্র লেখার কৌশল তুলে ধরেছেন।

BCS Written Preparation 40th Administration
সাফল্যের সংক্ষিপ্ত চিত্র

আবদুল্লাহ-আল-মামুন

পরীক্ষা
৪০তম বিসিএস
বর্তমান ভূমিকা
৪০তম বিসিএস, প্রশাসন ক্যাডার

৪০তম বিসিএসে প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত আবদুল্লাহ-আল-মামুন বিসিএস লিখিত পরীক্ষার আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি অংশে কার্যকরী প্রস্তুতির কৌশল তুলে ধরেছেন। ১০০ নম্বরের এই পরীক্ষাটি সাধারণত তিন ভাগে বিভক্ত থাকে, ধারণামূলক বা কনসেপচুয়াল বিষয়, গবেষণামূলক বা ইমপিরিক্যাল বিষয় এবং সমস্যা সমাধান বা প্রবলেম সলভিং অংশ। প্রতিটি অংশের জন্য আলাদা লেখার কৌশল থাকা জরুরি বলে জানান তিনি।

এক নজরে

  • পরামর্শদাতা, ৪০তম বিসিএস, প্রশাসন ক্যাডার
  • বিষয়, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি, লিখিত পরীক্ষা, ১০০ নম্বর, তিনটি অংশ
  • অংশ ১, ধারণামূলক, ১০টি প্রশ্ন, প্রতিটি ৪ নম্বর, প্রায় এক পাতায় উত্তর
  • অংশ ২, গবেষণামূলক, ৪টির মধ্যে ৩টি প্রশ্নের উত্তর, প্রাসঙ্গিক ম্যাপ আবশ্যক
  • অংশ ৩, সমস্যা সমাধান, নীতিপত্র বা কৌশলপত্র আকারে উত্তর

ধারণামূলক অংশ, সংজ্ঞা থেকে মতামত পর্যন্ত সাজিয়ে লেখা

ধারণামূলক অংশে ভালো করতে আগের দুই বছরের গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক বিষয়, যেমন করোনার টিকা নিয়ে কূটনীতি, জলবায়ু সম্মেলন, মুদ্রামান সংকট ও টিকাবিরোধী আন্দোলনের মতো বিষয় পড়ার পরামর্শ দেন আবদুল্লাহ-আল-মামুন, প্রতিটি বিষয়ের ভূরাজনৈতিক ও ভূকৌশলগত দিক বুঝে পড়ার ওপর জোর দিয়ে, যেখানে পত্রিকা সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে। এই অংশে সাধারণত ১০টি প্রশ্নের উত্তর করতে হয়, প্রতিটির নম্বর চার। সূচনা ও উপসংহারের মতো বাহুল্য অংশে সময় নষ্ট না করে টার্মের সংজ্ঞা, সমস্যা, সমাধান, জাতিসংঘের পূর্বাভাস ও নিজের মতামত দিয়ে সাজিয়ে লেখার পরামর্শ দেন তিনি। সময় ও নম্বর বণ্টনের হিসাবে এই অংশের প্রতিটি প্রশ্নের জন্য মোটামুটি এক পাতাই যথেষ্ট, অতিরিক্ত কলেবর না বাড়িয়ে বাঁচা সময় বাকি দুই অংশে ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।

গবেষণামূলক অংশ, সংস্থা, সম্পর্ক ও সঠিক ম্যাপ

গবেষণামূলক অংশে ভালো করতে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সাম্প্রতিক আন্তর্জাতিক বিষয়ে পূর্ণ ধারণা রাখা জরুরি বলে জানান তিনি, সিলেবাসে থাকা গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি, সম্মেলন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ও জাতিসংঘ কনভেনশন সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা থাকলে রেফারেন্স দিয়ে লেখা সহজ হয়। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ের তালিকায় আছে পরাশক্তি রাষ্ট্রগুলোর পারস্পরিক সম্পর্ক, বৈশ্বিক ও আঞ্চলিক সংস্থার কার্যক্রম, দক্ষিণ এশিয়ার রাষ্ট্রগুলোর রাজনৈতিক ইস্যু, বৈশ্বিক বড় বিরোধ ও দ্বন্দ্ব, এবং জাতিসংঘ ও এর অঙ্গসংস্থার লক্ষ্য ও কর্মপরিকল্পনা। প্রশ্নের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ম্যাপ যুক্ত করার ওপর বিশেষভাবে জোর দেন তিনি, যেমন বাংলাদেশ-ভারত-পাকিস্তান সম্পর্কিত প্রশ্নে ভারতীয় উপমহাদেশের ম্যাপ, রোহিঙ্গা সমস্যায় মিয়ানমারের ম্যাপ, মধ্যপ্রাচ্য সংক্রান্ত প্রশ্নে সামগ্রিক মধ্যপ্রাচ্যের ম্যাপ, আর রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ সংক্রান্ত প্রশ্নে রাশিয়া, ইউক্রেন, বেলারুশ ও পোল্যান্ড চিহ্নিত পূর্ব ইউরোপের আংশিক ম্যাপ। এই অংশে সাধারণত চারটি প্রশ্নের মধ্যে তিনটির উত্তর দিতে হয়, মূল কথা পয়েন্ট আকারে এবং ঘটনাপ্রবাহ ফ্লোচার্ট এঁকে উপস্থাপন করলে পরীক্ষকের দৃষ্টি সহজে আকর্ষণ করা যায় বলে জানান তিনি।

সমস্যা সমাধান অংশ, নীতিপত্র লেখার সঠিক বিন্যাস

শেষ অংশে বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট বৈশ্বিক উন্নয়ন, নিরাপত্তা ইস্যু, জলবায়ু পরিবর্তন কিংবা বাণিজ্যিক ও কারিগরি ক্ষেত্রে বৈদেশিক সহায়তার মতো বিষয়ে সমস্যা সমাধানের পদক্ষেপ বিশ্লেষণ করে নীতিপত্র বা কৌশলপত্র আকারে উত্তর লিখতে বলা হয়। এই ধরনের উত্তরে ভাববাচ্যে এবং বস্তুনিষ্ঠ ও নিরপেক্ষ ভাষায় লেখার পরামর্শ দেন আবদুল্লাহ-আল-মামুন। উত্তর সাজানোর ধারা হিসেবে প্রথমে সমস্যাটির পটভূমি তুলে ধরে স্পষ্ট ধারণা দিতে হবে, এরপর সমস্যাটির বর্তমান অবস্থা, ইতিমধ্যে নেওয়া পদক্ষেপ এবং সমাধানে আরও কী কী পদক্ষেপ নেওয়া যেতে পারে তা বিস্তারিত আলোচনা করতে হবে। সরকারি বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের তথ্য বাতায়ন বা তথ্য কণিকা আগে থেকে দেখে রাখলে পরীক্ষার হলে তথ্যভিত্তিক ও নির্ভরযোগ্য উত্তর লেখা সহজ হয় বলে জানান তিনি।

Learnera.xyz-এর ব্যবহারিক শিক্ষা

  1. আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির তিনটি অংশকে আলাদা কৌশলে সামলান, প্রতিটির নম্বর বণ্টন ও প্রশ্ন সংখ্যা মাথায় রেখে সময় ভাগ করুন।
  2. ধারণামূলক প্রশ্নে সূচনা-উপসংহারে সময় নষ্ট না করে সরাসরি সংজ্ঞা, সমস্যা ও সমাধানে চলে যান।
  3. গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলের ম্যাপ আগে থেকে অনুশীলন করে রাখুন, প্রশ্নের সঙ্গে মিলিয়ে সঠিক ম্যাপ যুক্ত করলে বাড়তি নম্বর পাওয়া যায়।
  4. ঘটনাপ্রবাহ ও পয়েন্ট আকারে উপস্থাপনার অভ্যাস করুন, দীর্ঘ গদ্যের চেয়ে এটি পরীক্ষকের দৃষ্টি সহজে কাড়ে।
  5. সমস্যা সমাধান অংশে নীতিপত্রের নির্দিষ্ট বিন্যাস অনুসরণ করুন, পটভূমি থেকে ভবিষ্যৎ পদক্ষেপ পর্যন্ত ধারাবাহিকভাবে লিখুন।
  6. সরকারি মন্ত্রণালয়ের তথ্য বাতায়ন আগে থেকে দেখে রাখুন, পরীক্ষার হলে নির্ভরযোগ্য তথ্য দিয়ে উত্তর সমৃদ্ধ করতে কাজে লাগে।

বিসিএস ভাইভার প্রস্তুতি নিয়ে আরও পড়তে দেখুন Learnera.xyz-এর বিসিএস ভাইভার পরিবেশ নিয়ে সার্বিক গাইড।

আপনার প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করুন

আন্তর্জাতিক বিষয়াবলির তিন ধরনের প্রশ্নেই আলাদা লেখার কাঠামো অনুশীলন করে রাখা সবচেয়ে বড় প্রস্তুতি। শুরু করতে Learnera.xyz-এর বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং স্টাডি গাইড ব্যবহার করতে পারেন। আবদুল্লাহ-আল-মামুনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, সঠিক কাঠামো মেনে লেখাই কম সময়ে বেশি নম্বর তোলার মূল উপায়।

সম্পর্কিত সাফল্যের গল্প

BCS Success Story 43rd Education

এইচএসসিতে ফেল, সিজিপিএ ২.৯৪ নিয়ে ৪৩তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সাদিকুর রহমান রাহাত

সাদিকুর রহমান রাহাত

এইচএসসিতে দুই বিষয়ে ফেল করে দ্বিতীয়বার জিপিএ ২.৯০ নিয়ে পাস করা এবং জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে অনার্সে সিজিপিএ ২.৯৪ পাওয়া সাদিকুর রহমান রাহাত শিক্ষকতা ও টিউশনি চালিয়ে…

গল্পটি পড়ুন →
BCS Success Story 43rd Police

ধৈর্যই এখানে ম্যাজিক, বিদেশ যাওয়ার পরিকল্পনা ছেড়ে ৪৩তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সপ্তম শাওন রেজা

শাওন রেজা

বিদেশে গিয়ে স্থায়ী হওয়ার পরিকল্পনা বাদ দিয়ে দেশে থেকে ৪৩তম বিসিএসে পুলিশ ক্যাডারে সপ্তম হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শাওন রেজা। মুখস্থর বদলে বোঝাপড়া তৈরি করে পড়াশোনা আর…

গল্পটি পড়ুন →
BCS Failure to Success Success Story 43rd

বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়েও ৪৩তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেলেন আশরাফুল ইসলাম ইমন

আশরাফুল ইসলাম ইমন

৪১তম বিসিএসের রিটেন পরীক্ষার দুই মাস আগে বাবাকে হারিয়ে ভেঙে পড়া আশরাফুল ইসলাম ইমন ৪৩তম বিসিএসে তথ্য ক্যাডারে সুপারিশ পেয়েছেন। বাংলাদেশ টেক্সটাইল বিশ্ববিদ্যালয়ের এই শিক্ষার্থী পরিবারের…

গল্পটি পড়ুন →