চাকরি করতে করতে বিসিএসের মতো প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া সহজ কাজ নয়। সময়ের অভাব, ক্লান্তি আর নিয়মিত অধ্যয়নের ছন্দ ধরে রাখার চ্যালেঞ্জ পেরিয়ে আব্দুল্লাহ-আল-মামুন সুপারিশ পান ৪০তম বিসিএসে, প্রশাসন ক্যাডারে। এর আগে তিনি ৪০তম, ৪১তম ও ৪৩তম বিসিএসেও অংশ নিয়েছিলেন চাকরির পাশাপাশি। তাঁর অভিজ্ঞতা বলছে, সঠিক সময় ব্যবস্থাপনা আর নিয়মিত অল্প অল্প পড়াশোনাই একজন কর্মজীবী প্রার্থীর জন্য সবচেয়ে কার্যকর কৌশল।
এক নজরে প্রস্তুতির কৌশল
- প্রতিদিন নির্দিষ্ট একটা সময় পড়াশোনার জন্য বরাদ্দ রাখা
- সকালের শান্ত সময়কে পড়াশোনার জন্য অগ্রাধিকার দেওয়া
- ঘণ্টা ধরে নয়, বিষয়ভিত্তিক লক্ষ্য ঠিক করে পড়া
- পিএসসির সিলেবাস অনুযায়ী সীমার মধ্যে থেকে প্রস্তুতি নেওয়া
- পূর্ণকালীন প্রার্থীদের সঙ্গে তুলনা করে চাপ না নেওয়া
চাকরির পাশাপাশি সময় ব্যবস্থাপনা
চাকরির ব্যস্ততার মধ্যেও প্রতিদিন পড়াশোনার জন্য একটা সময় অবশ্যই রাখতে হবে, এমনটাই মনে করেন মামুন। দীর্ঘ সময় ধরে পড়ার চেয়ে তিনি গুরুত্ব দিয়েছেন মনোযোগী, ছোট ছোট লক্ষ্য ঠিক করে পড়াশোনায়। ৪০ মিনিট বাংলা, ৪০ মিনিট ইংরেজি, এই ধরনের বাঁধাধরা রুটিনের বদলে তিনি বিষয়ভিত্তিক নমনীয় রুটিন অনুসরণ করার পরামর্শ দেন, যাতে যে বিষয়ে বেশি সময় দরকার সেখানে বাড়তি মনোযোগ দেওয়া যায়। তাঁর ভাষায়, সময় দিয়ে পড়া মাপার বদলে পড়া দিয়ে সময় মাপা উচিত।
প্রিলিমিনারি ও লিখিত প্রস্তুতির কৌশল
প্রস্তুতির শুরুতেই তিনি পিএসসির নির্ধারিত সিলেবাস মনোযোগ দিয়ে দেখে নেওয়ার ওপর জোর দেন, যাতে কোনো গুরুত্বপূর্ণ অংশ বাদ না পড়ে। পূর্ণকালীন প্রার্থীদের তুলনায় নিজেকে পিছিয়ে আছেন বলে মনে করার প্রবণতা এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেন তিনি, কারণ দীর্ঘ সময়ের চেয়ে সুনির্দিষ্ট ও মনোযোগী প্রস্তুতিই বেশি কার্যকর। সিলেবাসের বাইরে না গিয়ে নির্ধারিত অংশটুকু বারবার ঝালিয়ে নেওয়াকেই তিনি সবচেয়ে নিরাপদ কৌশল বলে মনে করেন।
মানসিক প্রস্তুতি ও আত্মবিশ্বাস
মামুনের মতে, বিসিএসকে ক্যারিয়ারে প্রবেশের একটা ধাপ হিসেবে দেখলে অহেতুক মানসিক চাপ অনেকটাই কমে যায়। অতিরিক্ত প্রত্যাশা মাঝেমধ্যে পরীক্ষার হলে স্নায়ুচাপ বাড়িয়ে দিয়ে ফলাফলে প্রভাব ফেলতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়ায় আত্মবিশ্বাস ধরে রাখাকেই তিনি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন।
Learnera.xyz-এর ব্যবহারিক শিক্ষা
- চাকরি থাকলেও প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময় পড়াশোনায় রাখুন।
- দীর্ঘ সময়ের চেয়ে মনোযোগী, ছোট লক্ষ্যভিত্তিক পড়াশোনাকে অগ্রাধিকার দিন।
- সিলেবাসের বাইরে না গিয়ে নির্ধারিত অংশ বারবার ঝালিয়ে নিন।
- পূর্ণকালীন প্রার্থীদের সঙ্গে তুলনা করে অহেতুক চাপ নেবেন না।
- প্রিলিমিনারি থেকে ভাইভা পর্যন্ত আত্মবিশ্বাস ধরে রাখার অনুশীলন করুন।
আপনার প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করুন
চাকরির পাশাপাশি প্রস্তুতি নিলে সিলেবাসভিত্তিক অধ্যয়ন আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। শুরু করতে Learnera.xyz-এর বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং স্টাডি গাইড ব্যবহার করতে পারেন। প্রতিদিনের অল্প কিন্তু নিয়মিত অনুশীলনই দীর্ঘমেয়াদে সবচেয়ে বেশি কাজে আসে, মামুনের অভিজ্ঞতার সবচেয়ে ব্যবহারিক শিক্ষা এটিই।