৪১তম বিসিএসে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত মো. রিয়াজ উদ্দিন মৌখিক পরীক্ষার একেবারে শেষ সময়ের প্রস্তুতি নিয়ে পরামর্শ দিয়েছেন। তাঁর মূল কথা, ভাইভায় নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণ করার দরকার নেই, বরং বোর্ডকে সন্তুষ্ট করে জিততে হয়। এ জন্য প্রয়োজন আত্মবিশ্বাস, বিনয় ও ইতিবাচক মানসিকতা।
এক নজরে
- পরামর্শদাতা, ৪১তম বিসিএস, শিক্ষা ক্যাডার
- মূল মানসিকতা, আত্মবিশ্বাস, বিনয় ও ইতিবাচক মনোভাব
- উত্তরের সময়, প্রতিটি প্রশ্নে মাত্র ৩০ সেকেন্ড
- স্বস্তির তথ্য, ৪১তম বিসিএসে প্রকৃত ভাইভায় ফেল করানোর হার মাত্র ২-৩ শতাংশ
মানসিক প্রস্তুতি, আত্মবিশ্বাস ও বিনয়
মো. রিয়াজ উদ্দিনের মতে বিসিএস ভাইভায় নিজেকে জ্ঞানী প্রমাণ করার প্রয়োজন নেই, বরং বোর্ডকে সন্তুষ্ট করাটাই আসল কাজ, আর এ জন্য দরকার আত্মবিশ্বাস, বিনয় ও ইতিবাচক মানসিকতা। নিজের প্রতি পূর্ণ আস্থা রাখার পাশাপাশি সব সময় বিনয়ী থাকার পরামর্শ দেন তিনি, কারণ প্রতিটি প্রতিষ্ঠানই বিনয়ী মানুষ খোঁজে। বিশ্ববিদ্যালয় পর্যায়ে ইতিমধ্যে অনেক ভাইভা দেওয়া হয়ে গেছে জানিয়ে এটিকে সেরকমই আরেকটি ভাইভা হিসেবে স্বাভাবিকভাবে নেওয়ার কথা বলেন তিনি, আতঙ্কিত হওয়ার কিছু নেই বলে আশ্বস্ত করেন। তাঁর ব্যাখ্যায়, ভাইভায় শুধু জ্ঞান নয়, প্রার্থীর যোগাযোগদক্ষতা, আত্মবিশ্বাস, মানসিক পরিপক্বতা, অর্জিত জ্ঞান প্রয়োগের ক্ষমতা, কাজের প্রতি নিবেদন এবং জরুরি পরিস্থিতি সামলানোর ক্ষমতাও যাচাই করা হয়, যা একজন মানুষের সামগ্রিক জীবনযাপনের সঙ্গেই জড়িত।
এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও মূল বিষয়ে প্রস্তুতি
ভাইভার আগে নিজের ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে যাওয়ার পরামর্শ দেন মো. রিয়াজ উদ্দিন, বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, মুক্তিযোদ্ধা ও তাঁরা কত নম্বর সেক্টরে ছিলেন তা জানা জরুরি বলে জানিয়ে বাংলা একাডেমি প্রকাশিত সংশ্লিষ্ট জেলার বই পড়ার কথা বলেন, একই সঙ্গে নিজের কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও হল সম্পর্কেও পড়ে যাওয়া উচিত বলে জানান। বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ নিয়ে প্রায়ই প্রশ্ন হয় জানিয়ে প্রিলিমিনারি ও লিখিত পরীক্ষার প্রস্তুতি আবার রিভিশন দেওয়ার বা প্রয়োজনে একটি ভালো বই কিনে পড়ার পরামর্শ দেন তিনি, সংবিধান, বাংলাদেশের জাতীয় বিষয়াবলি, সাম্প্রতিক পরিস্থিতি, সরকারের উন্নয়ন কর্মকাণ্ড, বাজেট ও সমীক্ষা খুব ভালোভাবে পড়ার কথাও বলেন। নিজের অভিজ্ঞতা থেকে জানান, তাঁকে শিক্ষা খাতে বাজেট বরাদ্দ কত তা জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল। স্নাতক পর্যায়ে পঠিত বিষয়ের মৌলিক ধারণা, লিখিত পরীক্ষার সিলেবাসের অংশ, এমনকি ফিল্ড ওয়ার্ক বা গবেষণাপত্র থাকলে তা সম্পর্কেও প্রস্তুত থাকার পরামর্শ দেন তিনি।
ইংরেজি চর্চা, ক্যাডার পছন্দ ও বডি ল্যাঙ্গুয়েজ
ভাইভায় ইংরেজিতেও প্রশ্ন হতে পারে জানিয়ে দলবদ্ধভাবে নিয়মিত ইংরেজি কথোপকথন অনুশীলনের পরামর্শ দেন মো. রিয়াজ উদ্দিন, প্রতিটি সম্ভাব্য প্রশ্নের বাংলা ও ইংরেজি দুই ধরনের উত্তর তৈরি রাখতে বলেন তিনি। ভাইভার দিনের বাংলা-ইংরেজি তারিখ, সেদিনের পত্রিকার শিরোনাম ও উল্লেখযোগ্য ঐতিহাসিক ঘটনা জেনে যাওয়া, এক-দুটি ভালো বই কিনে পড়া এবং কয়েকটি মক ভাইভায় অংশ নেওয়ার পরামর্শও দেন তিনি, কারণ এতে আত্মবিশ্বাস বাড়ে। ক্যাডার পছন্দক্রমের প্রথম দুই থেকে তিনটি চয়েস সম্পর্কে বিস্তারিত জানা এবং নিজের একাডেমিক বিষয়ের সঙ্গে প্রথম পছন্দের ক্যাডার কীভাবে সম্পর্কিত তা জেনে রাখার কথা বলেন তিনি। উত্তর দেওয়ার সময় হাসিমুখে থাকার এবং বোর্ডের সবার সঙ্গে চোখাচোখি রাখার পরামর্শ দেন, প্রশ্নকর্তার দিকে মূল মনোযোগ রেখে বাকিদের দিকেও অন্তত একবার তাকানো উচিত বলে জানান তিনি।
উত্তরের সময়সীমা ও না জানা প্রশ্ন সামলানো
প্রতিটি প্রশ্নের উত্তরের জন্য মাত্র ৩০ সেকেন্ড সময় পাওয়া যায় জানিয়ে টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দেওয়ার পরামর্শ দেন মো. রিয়াজ উদ্দিন, উত্তর না জানা থাকলে অযথা প্যাঁচিয়ে না গিয়ে সরাসরি দুঃখ প্রকাশ করাই ভালো বলে জানান। কোনো প্রশ্নের উত্তর না পারলে ঘাবড়ানোর দরকার নেই, কারণ ন্যূনতম পাস মার্ক তখনও থাকে বলে আশ্বস্ত করেন তিনি। সর্বশেষ ৪১তম বিসিএসে প্রায় ৬৫০ জন প্রার্থী অকৃতকার্য হয়েছিলেন জানিয়ে তিনি ব্যাখ্যা করেন, এর একটা বড় অংশই আসলে ভাইভায় অংশগ্রহণই করেননি, অর্থাৎ প্রকৃতপক্ষে ভাইভায় ফেল করানোর হার মাত্র ২ থেকে ৩ শতাংশ। তবে বোর্ডের সঙ্গে ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করলে কিংবা একেবারে নার্ভাস হয়ে পড়লে ফেল করানো হতে পারে বলেও সতর্ক করেন তিনি। ২০০ নম্বরের এই ভাইভা ক্যাডার পদ পাওয়ার ক্ষেত্রে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে বলে জানিয়ে আত্মবিশ্বাস নিয়ে পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার পরামর্শ দিয়ে শেষ করেন তিনি।
Learnera.xyz-এর ব্যবহারিক শিক্ষা
- ভাইভাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্য যেকোনো ভাইভার মতোই স্বাভাবিকভাবে নিন, অতিরিক্ত আতঙ্কিত হওয়ার প্রয়োজন নেই।
- নিজের এলাকা, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, বঙ্গবন্ধু ও মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে শেষ মুহূর্তে বিস্তারিত রিভিশন দিন।
- প্রশ্নের বাংলা ও ইংরেজি দুই ভাষাতেই উত্তর প্রস্তুত রাখুন এবং সম্ভব হলে মক ভাইভায় অংশ নিন।
- নিজের পছন্দক্রমের শীর্ষ কয়েকটি ক্যাডার এবং সেগুলোর সঙ্গে নিজের বিষয়ের সম্পর্ক ভালোভাবে জেনে রাখুন।
- ৩০ সেকেন্ডের মধ্যে টু দ্য পয়েন্ট উত্তর দিন, না জানলে বিনয়ের সঙ্গে তা স্বীকার করুন, প্যাঁচাবেন না।
- প্রকৃত ফেল করানোর হার মাত্র ২-৩ শতাংশ মনে রেখে অতিরিক্ত দুশ্চিন্তার বদলে আত্মবিশ্বাস নিয়ে বোর্ডের সামনে যান।
বোর্ডের গঠন ও কথোপকথনের ধরন নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন Learnera.xyz-এর বিসিএস ভাইভার পরিবেশ নিয়ে সার্বিক গাইড।
আপনার প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করুন
ভাইভার শেষ কয়েক দিন নতুন বিষয় শেখার বদলে নিজের এলাকা, প্রতিষ্ঠান ও মূল বিষয়ের রিভিশনে ব্যয় করাই সবচেয়ে কার্যকর কৌশল। শুরু করতে Learnera.xyz-এর বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং স্টাডি গাইড ব্যবহার করতে পারেন। মো. রিয়াজ উদ্দিনের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, আত্মবিশ্বাস ও বিনয়ের সমন্বয়ই ভাইভা বোর্ডে সবচেয়ে কার্যকর অস্ত্র।