সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের ডেন্টাল ইউনিটে ইন্টার্নশিপ চলাকালীন অ্যাপিয়ার্ড প্রার্থী হিসেবে ৪৩তম বিসিএসে আবেদন করেন শের শাহ। ডেন্টিস্ট্রি পড়েও পুলিশ ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ রাখেন তিনি, এবং শেষ পর্যন্ত সেই ক্যাডারেই মেধাক্রম তৃতীয় স্থানে সুপারিশপ্রাপ্ত হন।
ইন্টার্নশিপের ফাঁকে প্রস্তুতি
নিয়মিত মেডিকেল কোর্সের সঙ্গে বিসিএস প্রস্তুতি একসঙ্গে চালানো সম্ভব নয় বলে জানান শের শাহ, তাই কৌশলগতভাবে নিয়মিত ক্লাসের সময় নয়, ইন্টার্নশিপের সময়টাকেই বেছে নেন প্রস্তুতির জন্য। আগে থেকেই পত্রিকা পড়ার অভ্যাস ছিল তাঁর, যা বিসিএস-নির্দিষ্ট না হয়েও পরবর্তীতে কাজে লাগে। মুক্তিযুদ্ধ, ভাষা আন্দোলন ও স্বাধীনতা-পরবর্তী ইতিহাসের বই পড়েন, আন্তর্জাতিক বিষয়াবলি ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটসহ বিশ্লেষণ করেন এবং শিক্ষামূলক ইউটিউব চ্যানেল দিয়ে গতানুগতিক পড়াশোনার পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার করেন। অনেক বই না ঘেঁটে নির্দিষ্ট বিষয়ের ওপর কেন্দ্রীভূত বই পড়াকেই বেশি কার্যকর মনে করেন তিনি।
কেন ডেন্টিস্ট্রি ছেড়ে পুলিশ
সিনিয়রদের পররাষ্ট্র ক্যাডারে যোগ দিতে দেখে নিজের চিন্তার পরিধি আরও বিস্তৃত হয় শের শাহর, সঙ্গে দীর্ঘদিনের ইউনিফর্মের প্রতি আকর্ষণও কাজ করেছে। তবে গভীরতর যুক্তি হলো, বিপদে পড়লে মানুষ সবার আগে চিকিৎসক ও পুলিশের কাছেই আসে। দন্তচিকিৎসার সেবার পরিধি সীমিত মনে হয়েছে তাঁর কাছে, পুলিশের কাজ অনেক বেশি ব্যাপক সামাজিক সমস্যা মোকাবিলা করে। মাদকাসক্তিতে জড়িয়ে পড়া মেডিকেল শিক্ষার্থীদের জীবন বিপর্যস্ত হতে দেখেছেন তিনি, পাশাপাশি সাইবার বুলিং, যৌন হয়রানি, হ্যাকিং ও তার জেরে আত্মহত্যার মতো গুরুতর সামাজিক সমস্যাও প্রত্যক্ষ করেছেন, যেগুলো পুলিশ পদ্ধতিগতভাবে মোকাবিলা করতে পারে বলে মনে করেন তিনি।
উপস্থাপনাই লিখিত পরীক্ষার চাবিকাঠি
তিন ধাপের মধ্যে লিখিত পরীক্ষাকেই সবচেয়ে কঠিন মনে করেন শের শাহ। টানা ছয় দিন, প্রতিদিন চার ঘণ্টা করে চলে এই পরীক্ষা। হাজারো প্রার্থী প্রায় একই ধরনের উত্তর লেখেন বলে যাঁর খাতার উপস্থাপনা যত সুন্দর, তিনি তত বেশি নম্বর পান, এই পর্যবেক্ষণ শেয়ার করেন তিনি।
চৌদ্দ প্রার্থীর মধ্যে দশম, তবু ভালো ফল
“ভাইভার কোনো নির্দিষ্ট সিলেবাস নেই, পরীক্ষকেরা যেখান থেকে ইচ্ছা প্রশ্ন করতে পারেন”, এই বাস্তবতা মাথায় রেখেই ভাইভায় বসেন তিনি। শেষ দিনে চৌদ্দজন প্রার্থীর মধ্যে দশম ক্রমে ভাইভা দেন শের শাহ, প্রায় বারো মিনিটে কুড়িটির মতো প্রশ্নের মুখোমুখি হন তিনি। নিজের পঠিত বিষয় ও পুলিশ সংশ্লিষ্ট বিষয়েই বেশি প্রশ্ন হয়। পরের দিকে ভাইভা দিলে কম নম্বর পাওয়ার একটি প্রচলিত ধারণা আছে, তবে তা ভুল বলে মনে করেন তিনি, পরীক্ষকেরা প্রার্থীর ব্যক্তিত্ব, সততা ও উপস্থিত বুদ্ধি যাচাই করেন, ক্রম যাই হোক না কেন।
Learnera.xyz-এর ব্যবহারিক শিক্ষা
- নিজের একাডেমিক পটভূমি ভিন্ন হলেও তা কীভাবে নতুন ক্ষেত্রে কাজে লাগবে, তা ভেবে রাখুন।
- অন্যের সফল পদ্ধতি নকল না করে নিজের শক্তি-দুর্বলতা বুঝে প্রস্তুতি সাজান।
- অনেক বই ছুঁয়ে দেখার চেয়ে অল্প কিছু বই ভালোভাবে আয়ত্ত করুন।
- লিখিত পরীক্ষায় উত্তরের বিষয়বস্তুর পাশাপাশি খাতার উপস্থাপনাও গুরুত্বসহকারে ভাবুন।
- ভাইভার ক্রম নিয়ে দুশ্চিন্তা না করে নিজের প্রস্তুতির ওপর মনোযোগ দিন।
- বিসিএস প্রস্তুতির কাঠামো অন্য প্রতিযোগিতামূলক পরীক্ষাতেও একসঙ্গে কাজে লাগাতে পারেন।
সিরিয়াল, বোর্ডের গঠন ও ভাইভার সার্বিক পরিবেশ নিয়ে আরও বিস্তারিত জানতে পড়ুন Learnera.xyz-এর বিসিএস ভাইভার পরিবেশ নিয়ে সার্বিক গাইড।
আপনার প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করুন
ভিন্ন পটভূমি থেকে এলেও তা কীভাবে নতুন ভূমিকায় কাজে লাগবে, সেই ব্যাখ্যা প্রস্তুত রাখা জরুরি। শুরু করতে Learnera.xyz-এর বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং স্টাডি গাইড ব্যবহার করতে পারেন। শের শাহর গল্প মনে করিয়ে দেয়, ভিন্ন পথ থেকে এলেও লক্ষ্যে অবিচল থাকলে সাফল্য সম্ভব।