ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের ছাত্র মো. নোমান হাসান ৪৪তম বিসিএসের চূড়ান্ত ফলে শিক্ষা ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়েছেন। তাঁর মতে, বিসিএসে সফল হতে বইয়ের পাহাড় জমানোর দরকার নেই, বরং প্রয়োজনীয় জায়গাটুকু মন দিয়ে বুঝে পড়াই যথেষ্ট। প্রচলিত ধারণার বাইরে গিয়ে পরিকল্পিত ও সীমিত পড়াশোনার এই দর্শনেই নিজের সাফল্য খুঁজে পেয়েছেন তিনি।
এক নজরে
- ব্যাচ ও ক্যাডার, ৪৪তম বিসিএস, শিক্ষা ক্যাডার, শিক্ষা ক্যাডারই ছিল তাঁর প্রথম পছন্দ
- শিক্ষা, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগ থেকে সম্মান (২০১৮) ও স্নাতকোত্তর (২০১৯)
- পটভূমি, ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া গ্রাম, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে মেধাবৃত্তি
- মূল দর্শন, পরিকল্পিত ও সীমিত পড়াশোনা, মুখস্থের বদলে বোঝা, নিজের শক্তির জায়গায় বাড়তি মনোযোগ
পরিকল্পিত ও গভীর পড়াশোনা, বইয়ের পাহাড় নয়
নোমান হাসানের প্রস্তুতির মূল কথা ছিল পরিকল্পনা অনুযায়ী পড়াশোনা, যতটুকু প্রয়োজন ঠিক ততটুকুই পড়া। মুখস্থবিদ্যায় নিজেকে দুর্বল মনে করতেন বলে যা পড়েছেন তা মন দিয়ে বুঝে পড়ার চেষ্টা করেছেন সব সময়। বিসিএসে ভালো করতে সব বিষয়ে সমান মনোযোগ না দিয়ে নিজের শক্তির জায়গাগুলোতে বাড়তি ফোকাস করার কৌশল নিয়েছিলেন তিনি, যাতে সেসব বিষয় থেকে তুলনামূলক বেশি নম্বর তোলা যায়, তবে দুর্বল জায়গাগুলোও একেবারে বাদ দেননি বলে জানান। ক্যাডার পছন্দের ক্ষেত্রেও নিজের ইচ্ছাকেই প্রাধান্য দিয়েছেন তিনি, অন্যের দেখাদেখি নয় বরং নিজেকে কোথায় দেখতে চান তার ভিত্তিতেই শিক্ষা ক্যাডারকে প্রথম পছন্দ রেখেছিলেন।
পরিবারের ত্যাগ ও সাফল্যের অনুভূতি
ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজেলার কাচিয়া ইউনিয়নের ফুলকাচিয়া গ্রামে সাবেক ব্যবসায়ী আব্দুর রব মিয়া ও আমেনা বেগম দম্পতির সন্তান নোমান হাসান ছোটবেলা থেকেই মেধাবী ছিলেন, পঞ্চম ও অষ্টম শ্রেণিতে পেয়েছিলেন মেধাবৃত্তি। ২০১১ সালে এসএসসি ও ২০১৩ সালে এইচএসসি পাস করার পর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগে ভর্তি হন, সেখান থেকেই ২০১৮ সালে সম্মান ও ২০১৯ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। প্রস্তুতির সময় স্ত্রী-সন্তানদের সময় দিতে না পারার কথা খোলাখুলি স্বীকার করেন তিনি, স্ত্রীর ত্যাগ, ধৈর্য ও সেবার কথা কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করে জানান, তিনি হাসিমুখে সবকিছু সহ্য করেছেন এই দিনটির অপেক্ষায়, তাই নিজের এই সাফল্যকে স্ত্রীরও সাফল্য বলে মনে করেন নোমান হাসান। বিসিএস ক্যাডার হওয়াকে জীবনের সবচেয়ে কাঙ্ক্ষিত অর্জনগুলোর একটি বলে বর্ণনা করে তিনি জানান, এই অনুভূতি ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।
বিসিএসকে একমাত্র লক্ষ্য না বানানোর সতর্কতা
বিসিএসকে জীবনের একমাত্র লক্ষ্য বানানো নিয়ে সতর্কও করেন নোমান হাসান, যাদের সামনে ভালো বিকল্প সুযোগ আছে তাদের সেদিকেই এগিয়ে যাওয়া উচিত বলে মনে করেন তিনি, কারণ বিসিএস একধরনের ধৈর্যের পরীক্ষা, যেখানে সফল হতে দীর্ঘ সময় বিনিয়োগ করার মানসিকতা থাকা জরুরি। ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা প্রসঙ্গে নিজের কর্মক্ষেত্রে সেরা হওয়ার পাশাপাশি অন্য চাকরিপ্রার্থীদের সঠিকভাবে প্রস্তুতি নিতে সহায়তা করার ইচ্ছার কথাও জানান তিনি, যাতে তারাও নিজেদের স্বপ্ন পূরণ করতে পারেন।
Learnera.xyz-এর ব্যবহারিক শিক্ষা
- অতিরিক্ত বই জমানোর বদলে প্রয়োজনীয় উপকরণ বেছে নিয়ে গভীরভাবে বোঝার ওপর গুরুত্ব দিন।
- নিজের শক্তির জায়গা চিহ্নিত করে সেখানে বাড়তি সময় দিন, তবে দুর্বল বিষয় একেবারে বাদ দেবেন না।
- ক্যাডার পছন্দ ঠিক করুন নিজের লক্ষ্য ও আগ্রহের ভিত্তিতে, শুধু অন্যের দেখাদেখি নয়।
- দীর্ঘ প্রস্তুতিপর্বে পরিবারের সহযোগিতা ও ত্যাগের গুরুত্ব স্বীকার করুন এবং কৃতজ্ঞ থাকুন।
- নিজের বিকল্প সুযোগ ও অগ্রাধিকার বিবেচনা করে বাস্তবসম্মতভাবে সিদ্ধান্ত নিন, বিসিএসই একমাত্র পথ না-ও হতে পারে সবার জন্য।
বিসিএস প্রস্তুতির সামগ্রিক কৌশল নিয়ে আরও পড়তে দেখুন Learnera.xyz-এর বিসিএস ভাইভার পরিবেশ নিয়ে সার্বিক গাইড।
আপনার প্রস্তুতিতে প্রয়োগ করুন
বেশি বই নয়, বরং সঠিক পরিকল্পনা ও গভীর বোঝাপড়াই বিসিএস প্রস্তুতির আসল শক্তি। শুরু করতে Learnera.xyz-এর বিগত পরীক্ষার প্রশ্ন এবং স্টাডি গাইড ব্যবহার করতে পারেন। নোমান হাসানের অভিজ্ঞতা মনে করিয়ে দেয়, পরিমাণের চেয়ে গুণগত মনোযোগই দীর্ঘ প্রস্তুতিতে বড় পার্থক্য তৈরি করে।